অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা, কাজ বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই নিয়মিত যাচ্ছেন। কিন্তু অনেক যাত্রী এখনও ব্যাগে অপ্রয়োজনীয় ও নিষিদ্ধ জিনিস বহন করে বিমানবন্দরে সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কারণে জরিমানা, ভিসা বাতিল বা এমনকি ডিপোর্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।
প্রথমবার বিদেশ যাত্রায় অনেকেই বিভ্রান্ত হন কী আনবেন, কী আনবেন না—এ নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় সবকিছু সহজে ও সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়। তাই চাল, ডাল, ঝাড়ু বা গৃহস্থালি জিনিসপত্র বহনের প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজনীয় পোশাক, কিছু নিত্যব্যবহার্য জিনিস ও কিছু ডলার নিয়ে গেলে যাত্রা সহজ হবে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার সম্প্রতি সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে। প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের এই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি টার্মিনালে আধুনিক স্ক্যানার, বডি স্ক্যানার ও স্মার্টগেট স্থাপন করা হয়েছে।
সিডনির T2 (ডোমেস্টিক টার্মিনাল)-এ ২০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে বসানো হয়েছে নতুন সেলফ-চেক ইন মেশিন ও উন্নত স্ক্যানার, যেখানে ল্যাপটপ বা তরল পদার্থ আলাদা করতে হবে না—সব ব্যাগই ভেতরে থেকে স্ক্যান হবে।
আন্তর্জাতিক টার্মিনালে (T1) যুক্ত হয়েছে নতুন CT স্ক্যানার ও বডি স্ক্যানার, যা নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি যাত্রীদের সময়ও বাঁচাবে।
নতুন স্মার্টগেট কিয়স্কের ফলে পাসপোর্ট চেকিং হবে আগের তুলনায় অনেক দ্রুত।
এই ব্যবস্থায় এখন এক ঘণ্টায় আগের দ্বিগুণ যাত্রী স্ক্যান করা সম্ভব হবে। ফলে নিরাপত্তা হবে আরও কঠোর, কিন্তু যাত্রা হবে ঝামেলামুক্ত।
যে জিনিস আনা যাবে না:
কাঁচা মাংস, মাছ, ডিম, দুধজাত পণ্য (সিল না থাকলে), ফল, সবজি, বীজ, গাছ, ফুল, মাটি, জীবিত প্রাণী, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ, ধারালো জিনিস, আগ্নেয়াস্ত্র, নেশাজাতীয় দ্রব্য, বড় পরিমাণে অ্যালকোহল ও সিগারেট।
যে জিনিস আনা যাবে:
কাপড়, জুতা, বই, ব্যক্তিগত জিনিস, সিল করা শুকনো খাবার, প্রেসক্রিপশনসহ ওষুধ, ল্যাপটপ, মোবাইল, চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, উপহার সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।
হ্যান্ড ব্যাগে রাখুন:
পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট, অফার লেটার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, ছোট ইলেকট্রনিক্স ও মানিব্যাগ।
অস্ট্রেলিয়ায় সাশ্রয়ী শপিংয়ের জায়গা:
- ফার্নিচার: IKEA, Kmart, Big W
- মুদি দোকান: Woolworths, Coles, ALDI
- এশিয়ান ফুড: Asian Grocery Stores
- ইলেকট্রনিক্স: JB Hi-Fi, The Reject Shop
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, “অহেতুক জিনিস না এনে প্রয়োজনীয় অর্থ সঙ্গে রাখুন। নিয়ম মেনে চললে যাত্রা হবে নিরাপদ ও নির্ভার।”