নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০২৫
অফ দ্য ওমেন, বাই দ্য ওমেন, ফর দ্য ওমেন

 

নতুন চ্যাম্পিয়নের উত্থান

প্রমীলা ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখলো ভারত। ২০২৫ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো তারা।
এর আগে ভারত দুইবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়নি—২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে তারা হার মানে প্রতিপক্ষের কাছে। তবে এ বছর বৃষ্টির বাধা আর দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার লরা উলভার্ডটের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপেক্ষা করেও যোগ্যতর দল হিসেবেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ভারতের মেয়েরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে অস্ট্রেলিয়া সাতবার, ইংল্যান্ড চারবার এবং নিউজিল্যান্ড একবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাই ভারতে অনুষ্ঠিত এবারের আসর বিশেষ হয়ে থাকলো নতুন এক চ্যাম্পিয়নের জন্মের জন্য।

অফ দ্য ওমেন, বাই দ্য ওমেন, ফর দ্য ওমেন

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের গণতন্ত্র বিষয়ক উক্তির অনুকরণে বলা যায়—এ ছিল “অফ দ্য ওমেন, বাই দ্য ওমেন, ফর দ্য ওমেন” বিশ্বকাপ।
কারণ, এই প্রথম নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপে শুধু খেলোয়াড়রাই নারী ছিলেন না, পুরো আয়োজন—from ম্যাচ অফিসিয়াল থেকে টিভি প্রোডাকশন পর্যন্ত—পরিচালনায়ও ছিলেন নারীরাই। এভাবেই এবারের বিশ্বকাপ সত্যিকার অর্থে নারী নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইলো।

ওগো বৃষ্টি, তুমি ঝরো নাগো এমন করে

বিশ্বকাপজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল বৃষ্টি। শুরু থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত প্রায় সব খেলাই কোনো না কোনোভাবে বৃষ্টির প্রভাবে পড়েছে।
উদ্বোধনী ম্যাচ ভারত–শ্রীলঙ্কা ৪৭ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। পরবর্তী ম্যাচগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা–অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা–নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড–পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড–পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা–পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। এমনকি ফাইনালেও ছিল বৃষ্টির ছোঁয়া, যদিও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়।

বৃষ্টিতে সবচেয়ে লাভবান হয় পাকিস্তান। মাঠে প্রায় সব ম্যাচ হারলেও বৃষ্টির কল্যাণে তিনটি ম্যাচে তিন পয়েন্ট অর্জন করে দলটি। তাই তাদের স্লোগান যেন এমন—“আয় বৃষ্টি ঝেঁপে, ধান দেবো মেপে।”

বিতর্কিত আম্পায়ারিং

এবারের আসরে আম্পায়ারদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত ছিল বিতর্কিত।
বাংলাদেশ–ইংল্যান্ড ম্যাচে ইংল্যান্ডের ব্যাটার হিদার নাইট ফাহিমা খাতুনের বলে স্বর্ণা আক্তারের হাতে ধরা পড়লেও টিভি আম্পায়ার গায়ত্রী বেনুগোপালন সেটিকে নট আউট ঘোষণা করেন—যেখানে টিভি রিপ্লেতে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল নিখুঁত ক্যাচ।
একইভাবে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে টিভি আম্পায়ার প্রথমে মুনাবা আলীকে নট আউট ঘোষণা দিলেও পরে একই আম্পায়ার আবার আউট দেন, যা নিয়েও বিতর্ক ছড়ায়।

গ্রুপ পর্বে হার, সেমিফাইনাল–ফাইনালে জয়

গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা হেরেছিল ইংল্যান্ডের কাছে, আর অস্ট্রেলিয়া রেকর্ড রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল ভারতের বিপক্ষে।
তবে সেমিফাইনালে সব পাল্টে যায়। ইংল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা, আর ভারত রেকর্ড রান তাড়া করে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে।
ফাইনালেও একই গল্প—গ্রুপ পর্বে যাদের কাছে হেরেছিল, সেই দক্ষিণ আফ্রিকাকেই হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত।

সে রাঁধে, সে বাঁধে চুল—

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্ডট শুধু দলে নেতৃত্বই দেননি, ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও।
মাঠের বাইরে তিনিও অনুকরণীয়: বিশ্ববিদ্যালয়ে সাতটি বিষয়ে ডিস্টিংশন নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন তিনি।

যার নাম বড়, তাঁর কর্মও বড়

শ্রীলঙ্কা দলের নেতৃত্বে ছিলেন চামারি আতাপাত্তু—পুরো নাম আতাপাত্তু মুদিয়ানসেলাগে চামারি জয়ননগিনা আতাপাত্থাতু
তাঁর দলের অনেক খেলোয়াড়ের নামই দীর্ঘ, যেমন—রাজাপাকসে মুদিয়ানসেলাগে ভিসমি দিওয়ামিনি গুনারতনে, বা এদরিসুরিয়া মোহাতিলাগে কৌশিনি নুথাইয়ানগানা হেরাম সেনাভিরাতথানা। তাই সংক্ষিপ্ত নামেই তারা বেশি পরিচিত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *