মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নতুন শান্তি পরিকল্পনার জবাবে হামাস আংশিকভাবে খোলা মনোভাব দেখালেও পুরো পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। ট্রাম্প অক্টোবরের ৫ তারিখের মধ্যে তার প্রস্তাবিত চুক্তি বিনা পরিবর্তনে মেনে নেওয়ার শর্ত দিয়েছেন, যা না মানলে গাজাকে “কঠিন মোকাবেলার” মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
হামাসের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, তারা মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিশরের কাছে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে। তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে তারা “সম্পূর্ণ ইসরায়েল-পক্ষীয়” এবং “হামাসকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
হামাসের প্রধান আপত্তিগুলো
১. অবাস্তব জিম্মি মুক্তির সময়সীমা: পরিকল্পনায় ইসরায়েলি জিম্মিদের (জীবিত বা মৃত) ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার শর্ত হামাসের কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে। তারা বলেছে, যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এমন সময়সীমা মানা সম্ভব নয়।
২. নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক বাহিনী গ্রহণযোগ্য নয়: হামাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা নিজেদের অস্ত্র ছাড়বে না এবং গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী গ্রহণ করবে না।
৩. ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের গ্যারান্টি চাই: হামাস দাবি করেছে যে, যেকোনো চুক্তিতে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট সময়সীমা ও আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি থাকতে হবে, যাতে গাজার বাসিন্দাদের বিতাড়নের কোনো পরিকল্পনা না থাকে।
৪. যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি ও গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: হামাস জানিয়েছে যে, শুধু ইসরায়েলি জিম্মি ছাড়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি এবং গাজার দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৫. মার্কিন গ্যারান্টি নিয়ে অবিশ্বাস: হামাস কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে জানিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির গ্যারান্টি আর বিশ্বাসযোগ্য নয়।
অন্যান্য ফিলিস্তিনি গ্রুপের প্রতিক্রিয়া
অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে “হামাসের পরাজয়” এবং “গাজার জনগণের জন্য বিপজ্জনক” বলে মন্তব্য করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই পরিকল্পনা গাজার সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
নতুন ডেডলাইন ঘোষণা
হামাস জানিয়েছে যে, তারা ট্রাম্পের শর্তগুলোতে চাপ অনুভব করছে, তবে তারা পুরো পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং তারা একটি নতুন ডেডলাইন দিয়েছে, যার মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের পরিকল্পনা যদি হামাসের দাবি মতো সংশোধিত না হয়, তবে গাজায় যুদ্ধবিরতি আরও দূরে সরে যেতে পারে—যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীর ঝুঁকি তৈরি করবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে চূড়ান্ত সময়সীমা প্রদান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০-দফার শান্তিচুক্তি প্রস্তাবে ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সম্মতি দিতে হবে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া Truth Social-এ লিখেছেন:
“যদি এই শেষ সুযোগে চুক্তি না হয়, হামাসের বিরুদ্ধে এমন অভিযান হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি একভাবে বা অন্যভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”