মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের নতুন এইচ-১বি ভিসা নীতির বিরুদ্ধে সান ফ্রান্সিসকোর একটি ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিভিন্ন পেশার একদল কর্মী এই মামলা করেন। তাদের দাবি, হঠাৎ করে চালু করা ১ লাখ ডলারের নতুন ভিসা ফি অবৈধ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। খবর এএফপি।
মামলার আবেদনকারীরা যুক্তি দিয়ে বলেছেন, নতুন ফি কার্যকর হলে হাসপাতাল চিকিৎসক ও নার্স হারাবে, গির্জা ধর্মযাজক হারাবে, শ্রেণিকক্ষ শিক্ষকশূন্য হবে এবং দেশ গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবক হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। আদালতের কাছে তারা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবি জানান।
জানা গেছে, গত মাসে ঘোষিত নতুন ফি কার্যকর হওয়ার মাত্র ৩৬ ঘণ্টা আগে কোম্পানিগুলোকে জানানো হয়। এতে নিয়োগকর্তাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় যে কাদের ওপর এটি প্রভাব ফেলবে এবং কীভাবে এর বাস্তবায়ন হবে।
এইচ-১বি ভিসার ওপর নতুন ফি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন দমন অভিযানের অংশ। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প ব্যাপকভাবে অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতকে সরাসরি লক্ষ্য করা হয়নি, যেখানে এই ভিসা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র লটারি পদ্ধতিতে প্রায় ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেয়, যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ভারতীয় নাগরিকদের হাতে যায়। ট্রাম্প দাবি করছেন, এই ভিসার অপব্যবহার করে আমেরিকান শ্রমিকদের বদলে কম বেতনে বিদেশি কর্মী আনা হচ্ছে।
তবে ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী ইলন মাস্কসহ প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা সতর্ক করেছেন, এইচ-১বি ভিসার ওপর চাপ সৃষ্টি করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত সংকটে পড়বে। কারণ, দেশীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের শূন্যপদ পূরণের জন্য।