কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক তরুণ চিকিৎসক আছেন—নাম ডা. মোঃ ইমদাদুল হক টোটন। মানুষ তাঁকে চেনে অন্যভাবে। গ্রামের লোকেরা বলেন, “টোটন ডাক্তার একটু আলাদা।” তাঁর ঘরে ঢুকলেই বোঝা যায়—রোগীর প্রতি কোমল আচরণ আর মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনার ক্ষমতা যেন তাঁর চিকিৎসারই অংশ।
ডা. টোটন এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), পিজিটি (মেডিসিন), ডিওসি (চর্ম ও যৌন), সিসিডি (বারডেম) এবং সিএমইউ (আল্ট্রা) সম্পন্ন করেছেন। এখন তিনি দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।
চর্মরোগ, যৌনরোগ, মেডিসিন, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, এলার্জি, উচ্চ রক্তচাপ, বাতব্যথা, কোমর ও হাঁটু ব্যথা, শিরা সমস্যা—এমন কত রোগেই না মানুষ তাঁর কাছে আসে। কেউ দাদ নিয়ে, কেউ ব্রণ নিয়ে, কেউ আবার চোখ–মুখের নিচের কালো দাগ বা চুল পড়া নিয়ে। মা–শিশুর নানা রোগের চিকিৎসাও তিনি করেন নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে।
লোকমুখে শোনা যায়—ডা. টোটন রোগী দেখেন মন দিয়ে। প্রেসক্রিপশনের আগেই হাসিমুখে দুটো কথা বলেন। ভয় কেটে যায় রোগীর। স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, “টোটন ডাক্তার বিনামূল্যে রোগী দেখেন—মানুষের কল্যাণে।” এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় দূরের রোগীরাও এসে দাঁড়াচ্ছেন তাঁর চেম্বারের সামনে।
মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলেই তিনি স্বস্তি পান—এমনটাই জানালেন সহকর্মীরা। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ দৌলতপুরের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
একটি ছোট উপজেলায় এক ডাক্তার যখন নিজের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা দিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন—সেই গল্পটিই আজ দৌলতপুরের মানুষের মুখে মুখে।