কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টু হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্তদের একজন ‘শ্যুটার শামীম’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা সাঁড়াশি অভিযান চালানোর পর ফিলিপনগর হাইস্কুল বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক এবং দৌলতপুর থানার ওসি মহব্বত আলী।
গ্রেফতারকৃত শামীম (৩০) ফিলিপনগর হাইস্কুলপাড়া মৃত লালচাঁদের মসজিদপাড়া গ্রামের মজিবর দোকানদারের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি ‘গিট্টু সোহাগ’ বাহিনীর একজন শ্যুটার। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক কারবার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততা রয়েছে।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রবেশ করে গুলি করে হত্যা করা হয় চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুকে। এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন সোচ্চার ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই ‘তরিকুল ইসলাম বাহিনী’ এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
পরদিন নিহত চেয়ারম্যানের ছেলে আহসান হাবীব কনক বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে তরিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়। নাম উল্লেখ করা হয় আরও ১০ জনের। অজ্ঞাত হিসেবে রাখা হয় ৮–১০ জনকে। পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে ‘গিট্টু সোহাগ বাহিনীর’ সদস্য সোহাগ ইসলাম, রওশন, রাসেল, লালন, নাঈম, রেন্টু গিট্টু, আল আমিন, হিমেল, ইরাকসহ অনেকের নাম। এদের কয়েকজন জামিনে বের হয়ে আবারও এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা জানান, এই সন্ত্রাসী চক্র ফিল্মি স্টাইলে অপহরণ, দোকান-পাটে চাঁদা দাবি, হত্যা মামলার সাক্ষীদের হুমকি থেকে শুরু করে চরাঞ্চলে গরু–মহিষের রাখাল ও কৃষকদেরও মাঠে যেতে বাধা দিচ্ছে। কারাগার থেকে বের হয়ে কিছু আসামি আবারও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সময় তরিকুল ইসলাম এবং তার ভাই সাগর পাবনার ঈশ্বরদীর চারা বটতলা এলাকা থেকে এসে ফিলিপনগরে অবস্থান করেন এবং বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে পরিকল্পনা করেন। তবে প্রভাবের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
নিহত চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টু ছিলেন ফিলিপনগর বাজারপাড়ার মুতালিব সরকারের ছেলে। তিনি দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবং তিনবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।
দীর্ঘদিনের নজরদারি শেষে শামীমকে গ্রেফতারের মাধ্যমে মামলার তদন্ত নতুন গতি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি ও পুলিশ। তাদের দাবি, বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান চলছে। আর স্থানীয়দের দাবি, সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে ফিলিপনগরকে সন্ত্রাসমুক্ত করা এখন জরুরি।