কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পদ্মা নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। মরিচা ও চিলমারী ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলের বিশাল এলাকাজুড়ে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মরিচা ইউনিয়নের ভুরকা-হাটখোলা থেকে কোলদিয়াড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা, চিলমারীর বাংলাবাজার, আতারপাড়া, উদয়নগর ও ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ এলাকায় ভাঙন দ্রুত বাড়ছে। গত দেড় মাসে শত শত বিঘা আবাদি জমি, চারফসলি জমি, বাগান, বাড়িঘরসহ বহু স্থাপনা নদীতে তলিয়ে গেছে। জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার।
এলাকাবাসীরা জানান, দেড় মাস আগেও এসব এলাকায় বন্যার পানি ছিল। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। গত বছর কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা হলেও মরিচা ইউনিয়নের বড় অংশ এখনও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, ভারত থেকে আসা ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং মাত্র ৫০০ মিটার দূরের রায়টা–মহিষকুন্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও এখন ঝুঁকির মুখে। ভাঙনে হুমকির মধ্যে রয়েছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা—নদী ভরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুরকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়াড়ের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটখোলাপাড়া জামে মসজিদ, জুনিয়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং স্থানীয় বাজার।
কোলদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন বলেন, “ভাঙনের গতি এত বেশি যে প্রতিদিন নদী আরও কাছে চলে আসছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ না দিলে কয়েকটি গ্রামই হয়তো টিকে থাকবে না।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, আবাদি জমি নদীতে তলিয়ে গেলে কৃষিকাজ ব্যাহত হবে এবং কৃষকের ক্ষতি বাড়বে। উৎপাদনও কমে যেতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, “জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন। এজন্য পাউবো ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙন রোধে স্থায়ী ও অস্থায়ী দুই ধরনের প্রস্তাবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত পেলেই কাজ শুরু হবে।
স্থানীয়দের একটাই দাবি—দ্রুত স্থায়ী বাঁধ। তা না হলে গ্রাম, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো হারিয়ে যাবে পদ্মার ভাঙনে।