আম্বানি চিড়িয়াখানা তদন্তের পর বদলে গেল ভারতের বন্যপ্রাণী আমদানি সিদ্ধান্ত

ভারতের বন্যপ্রাণী আমদানি নীতি নিয়ে সম্প্রতি বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাইটিস (CITES) প্রথমে দেশটিকে বিপন্ন প্রাণী আমদানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পরামর্শ দিলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সেই অবস্থান পরিবর্তন করে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে গুজরাটের জামনগরে স্থাপিত আম্বানি পরিবারের মালিকানাধীন বন্যপ্রাণী কেন্দ্র “ভান্তারা”

ভান্তারা নিজেদের একটি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র দাবি করলেও সাইটিসের তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে এখানে ১০,০০০-এর বেশি বিদেশি প্রাণী আনা হয়েছে। এদের অনেকের উৎস নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে কাগজপত্রে দেখানো হয়েছে তারা প্রজননকেন্দ্রে জন্মানো, কিন্তু সেই উৎস দেশে এমন কোনো কেন্দ্রের অস্তিত্বই নেই। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এদের কেউ কেউ সরাসরি বনে ধরা হতে পারে।

সাইটিসের উদ্বেগ ছিল—ভারত প্রাণী আমদানির ক্ষেত্রে রপ্তানি দেশের কাগজপত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করছে, কিন্তু প্রাণীগুলোর প্রকৃত উৎস যাচাই করছে না। ফলে পাচারকৃত বা বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা প্রাণী ভারতের মাধ্যমে বৈধ পথে বাণিজ্যে ঢুকে পড়তে পারে।

এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (SIT) ভান্তারার বিরুদ্ধে কোনো আইনভঙ্গের প্রমাণ পায়নি বলে জানায়। তাদের মত—সব আমদানি বৈধ কাগজপত্র মেনেই হয়েছে। এই রিপোর্টের ওপর ভর করেই ভারত সাইটিসকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। বৈঠকে ভারতের পক্ষে মত দেয় আরও কয়েকটি দেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাইটিস আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো মনে করছে, এটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের ফল। তাদের মতে, বন্যপ্রাণী আমদানির ক্ষেত্রে ভারতকে আরও স্বচ্ছতা, যাচাইবাছাই এবং শক্তিশালী মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক তদারকির নজর। তাই দেশের বন্যপ্রাণী আইন ও আমদানির নিয়ম আরও শক্তিশালী করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে—

  • আমদানির আগে প্রাণীর প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করা
  • আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের তৃতীয় পক্ষের অডিট
  • পাচার ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা

ঘটনা শুধু একটি চিড়িয়াখানাকে ঘিরে নয়; এটি ভারতের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার দক্ষতারও পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়—বৈধতা, নৈতিকতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করে ভারত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *