ত্রিমাত্রিক সক্ষমতায় নৌবাহিনীর নতুন অগ্রগতি

নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও নৌবহরের ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত এলসিটি–১০১ এর লঞ্চিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) খুলনা শিপইয়ার্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এলসিটি–১০১ পানিতে নামানোর উদ্বোধন করেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খুলনা শিপইয়ার্ড তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক (এলসিটি) নির্মাণ করছে। এসব জাহাজ উপকূলীয় অঞ্চলে সেনা ও নৌবাহিনীর সমন্বিত এফিবিয়াস অপারেশনে ট্যাংক, আর্টিলারি, এপি সি ও ভারী সরঞ্জাম পরিবহণে ব্যবহৃত হবে। শান্তিকালেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার অভিযানে জাহাজগুলো কাজে লাগবে।

কানাডার ভার্ড মেরিন ডিজাইনের সহযোগিতায় নির্মিত প্রতিটি এলসিটি ছয়টি ট্যাংক অথবা ১২টি এপিসি কিংবা ১৮টি সামরিক যান বহনে সক্ষম। নৌবাহিনীর মতে, এসব জাহাজ যোগ হলে অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিরক্ষা শিল্প ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে।

রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড দেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর আর্থিক সংকটের কারণে ১৯৯৯ সালে এটি নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণে দেশ-বিদেশে পরিচিতি অর্জন করেছে।

শিপইয়ার্ডের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। বছরে প্রায় ৩,০০০ টন স্টিলওয়ার্কস সক্ষমতা ও আট শতাধিক জাহাজ নির্মাণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ ও ক্লাসিফিকেশন সংস্থা BV, DNV-GL, NKK, CCS, LR, RINA এবং ABS এর তত্ত্বাবধানে জাহাজ নির্মাণের মান নিশ্চিত করা হয়।

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে সরকার ঘোষিত ‘গ্রীন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে।

নৌবাহিনী পরিচালিত এসব প্রকল্প বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *