রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু মানুষের শরীরে পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)। স্থানীয় বাড়ির ফ্রিজে রাখা গরুর মাংসেও অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে।
পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে অন্তত ৩০ জন অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তবে দুজনের মৃত্যুর খবর অ্যানথ্রাক্সজনিত নয় বলে জানানো হয়েছে। আইইডিসিআরের বিশেষজ্ঞরা ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নমুনা সংগ্রহ করে ১২ জনের মধ্যে ৮ জনে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু শনাক্ত করেছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই ইউনিয়নের বারটি বাড়ির ফ্রিজ থেকে মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, যেগুলোতে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু পাওয়া গেছে। মূলত অগাস্টের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ে অসুস্থ পাঁচটি গরু জবাই করা হয়েছিল, যাদের মাংসের সংস্পর্শে আক্রান্তরা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দেড় লাখের বেশি গবাদি পশুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এবং কসাই ও গরু চাষীদের অসুস্থ গরুর বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্সের চিকিৎসা সহজলভ্য এবং মৃত্যুর ঝুঁকি তেমন নেই। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধে অসুস্থ গরু বা ছাগল জবাই বন্ধ করা, মারা গেলে মাটির গভীরে পুতে ফেলা এবং নিয়মিত পশু টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অ্যানথ্রাক্স মূলত গরু, ছাগল ও মহিষের মধ্যে দেখা যায়। আক্রান্ত পশুর কাঁচা মাংস, লালা, রক্ত বা হাড়ের সংস্পর্শে এ রোগ মানুষের মধ্যে ছড়ায়, তবে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ হয় না। শরীরে সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো চামড়ায় ক্ষত বা ফোড়া।
স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তরা মূলত কাঁচা মাংস কাটার সময় সংস্পর্শে এসেছিলেন। তবে জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, সদর ও পারুল ইউনিয়নের বাইরে নতুন আক্রান্তের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, রান্নার আগে কাঁচা মাংসের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। গরু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা ও নিরাপদভাবে মাটিতে পুতে ফেলার ব্যবস্থা নিতে হবে।