অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানো ও বেসরকারি বিনিয়োগে গতিশীলতা আনতে বিশেষ নীতিমালা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে চীন। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে ঘোষিত এই প্যাকেজে রাজস্ব ও আর্থিক নীতির সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
প্যাকেজের আওতায় ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিং গ্যারান্টি ফান্ড আগামী দুই বছর একটি বিশেষ গ্যারান্টি প্রোগ্রাম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে কেবল দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নয়, কারখানা সম্প্রসারণ, দোকান সংস্কার কিংবা দৈনন্দিন মূলধনের মতো বিভিন্ন খাতে ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। রেনমিন ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ বেই তুওকুয়াং মনে করেন, এই উদ্যোগ ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্রশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিতে আরও উৎসাহিত করবে।
সেবা খাতে ভর্তুকি সম্প্রসারণ করে ডিজিটাল সেবা, গ্রিন এনার্জি এবং রিটেইল সেক্টর যুক্ত করা হয়েছে। আগে যেখানে একজন ঋণগ্রহীতা সর্বোচ্চ ১০ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত ভর্তুকিযুক্ত ঋণ পেতেন, এখন সেই সীমা বাড়িয়ে ১ কোটি ইউয়ান করা হয়েছে। ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে; এখন ক্রেডিট কার্ড কিস্তিতেও ভর্তুকি প্রযোজ্য হবে।
চাইনিজ একাডেমি অফ সোশ্যাল সায়েন্সেসের গবেষক হ্য তাইসিন বলেন, রাজস্ব ও আর্থিক নীতির এই সমন্বয় সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের ব্যবহার আরও কার্যকর করবে এবং বাজারে তারল্য বাড়াবে।
এদিকে দেশের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন জানিয়েছে, ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জন্য নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনার লক্ষ্য হবে ‘চক্রাকার অর্থনীতি’ গড়ে তোলা, যেখানে নতুন চাহিদা নতুন সরবরাহের পথ তৈরি করবে। এতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং আধুনিক বাজার চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠনের ওপর জোর দেওয়া হবে।