জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জেএসডির পর এবার মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য বিএনপির জোট থেকে বেরিয়ে গেল। দীর্ঘদিনের মিত্র হলেও আসন নিয়ে মতানৈক্য ও মনোনয়ন সংকটের কারণে শেষ মুহূর্তে এই বিচ্ছেদ ঘটে।
আসন সমঝোতা না হওয়ায় জেএসডি আগেই এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল। এবার মান্নার দলও একই সিদ্ধান্ত নিল। বিএনপি বগুড়া–২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা শাহে আলমকে মনোনয়ন দেওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়। মান্না ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলেও বিএনপি তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করেনি।
এ ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মান্না একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি। পরে তিনি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে একা নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন। জানানো হয়, মান্না ঢাকা–১৮ ও বগুড়া–২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলের পক্ষ থেকে আরও ১০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়।
মান্না বলেন, ‘আমি জানতাম, সমঝোতার ভিত্তিতে বগুড়া–২ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না বিএনপি। কিন্তু আমার আসনে বিএনপির প্রার্থী রয়ে গেছেন। তারা তাদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে; আমাকে ইগনোর করেছে। কিন্তু আমি তো রাজনীতি করব। রাজনীতির অংশ হিসেবে নির্বাচনও করব।’
এর আগে ২৬ ডিসেম্বর আসন সমঝোতা না হওয়ায় জেএসডি এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়। দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রব লক্ষ্মীপুর–৪ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ২০১৮ সালেও তিনি জোটের প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু এবার বিএনপি আসনটি ছাড়তে রাজি হয়নি।
আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে ২০১৩ সালের পর থেকে বিএনপির সঙ্গে মান্নার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও বিএনপির সহযোগী ছিল। তখন এ জোটকে ৫টি আসন ছাড় দিয়েছিল বিএনপি এবং মান্না বগুড়া–২ থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করেন।
পরবর্তীতে গণতন্ত্র মঞ্চের মতো প্ল্যাটফর্মেও বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন চলেছে। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে সমমনা দলগুলোকে মূল্যায়নের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনী সমীকরণে আসন ছাড়ের কথাও বলা হয়। শেষ পর্যন্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও নাগরিক ঐক্যকে ৮টি আসন ছাড় দেওয়া হয় বলে বিএনপি দাবি করে। কিন্তু নাগরিক ঐক্যের একমাত্র আসন বগুড়া–২–এও শেষে নিজ দলের প্রার্থী দেয় বিএনপি।
ফলে জোটে থাকা দুই দল—জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য—দুজনই এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারবিরোধী আন্দোলনে চোখে পড়ার মতো ভূমিকা রাখলেও নির্বাচনী কৌশলে এই বিভক্তি বিএনপির জোট ব্যবস্থাকে দুর্বল করলো।