খুলনায় আত্মহত্যা প্রতিরোধে ‘টক হোপ ফর লাইফ’ কর্মসূচি

খুলনার বটিয়াঘাটা থানা হেডকোয়ার্টার পাইলট মডেল হাই স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক ‘টক হোপ ফর লাইফ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদ্যোগটি আয়োজন করে ড. মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন। সহযোগিতায় ছিল শ্যাডো (সোসাইটি ফর হিউম্যানিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ওভার দ্য ওয়ার্ল্ড)।

অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা, সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সহায়তা গ্রহণে উৎসাহ প্রদানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি মানসিক চাপ ও সংকটের প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিতকরণ, সহমর্মিতা ও যোগাযোগের মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধের কৌশল তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আলোচনা পর্ব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।

বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একজন সিনিয়র শিক্ষক জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রায়ই গুরুত্ব পায় না। তাঁর মতে, ‘টক হোপ ফর লাইফ’ শিক্ষার্থীদের বুঝতে সহায়তা করে যে প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং মানসিক সুস্থতার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বাবু বলেন, তরুণ প্রজন্ম বর্তমানে একাডেমিক, সামাজিক ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এসব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না হলে অনেক সময় নীরবে মূল্যবান জীবন হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তিনি জানান, কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্কুলে সচেতনতা, সহনশীলতা ও আশার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।

ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল মো. সাদ্দাম হোসেন রনি বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো মানুষের কথা শোনা ও বোঝা। শিক্ষার্থীরা যখন জানতে পারে যে তাদের অনুভূতি গুরুত্ব পায় এবং সহায়তা পাওয়া সম্ভব, তখন সেটি একটি জীবন রক্ষার পথ তৈরি করতে পারে।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জানান, মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও পাঠ্য শিক্ষাব্যবস্থায় এ বিষয়টির কম প্রতিফলন দেখা যায়। তারা উদ্যোগটির জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

আয়োজক ফাউন্ডেশন জানায়, ভবিষ্যতেও ‘টক হোপ ফর লাইফ’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল, কমিউনিটি ও যুব সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চলবে। তাদের লক্ষ্য একটি সুস্থ, সহানুভূতিশীল ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *