জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুইন লুইস মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাষ্ট্র অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বিদায় সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাতে গুইন লুইস প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফরকে “অত্যন্ত সফল” বলে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অধ্যাপক ইউনুসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল দেশটির ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রথমবারের মতো ছয়টি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা ঐ প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তিনি বলেন, “অধ্যাপক ইউনুসের সামাজিক উদ্ভাবন ও ন্যায়বিচারের প্রতি আজীবন নিবেদন আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ভাবনাকে নতুন দিশা দিয়েছে।”
গুইন লুইস স্মরণ করেন, “গত সাড়ে তিন বছর বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করা ছিল আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা। এই দেশের মানুষের দৃঢ়তা, সৃজনশীলতা ও উদারতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।”
সাক্ষাতে উভয়পক্ষ আগামী জাতীয় নির্বাচন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তার মেয়াদকালে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার ২০২২–২০২৬ সালের টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবকল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা ও নারী-পুরুষ সমতা—এই পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
গুইন লুইসের মেয়াদকালে ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের (OHCHR) নতুন কার্যালয় চালু হয়, যা মানবাধিকারভিত্তিক উন্নয়নে জাতিসংঘের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি বাংলাদেশের জলবায়ু কার্যক্রমে বৈশ্বিক নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন। ‘সবার জন্য আগাম সতর্কতা’, ‘শিক্ষা রূপান্তর উদ্যোগ’ ও ‘খাদ্য ব্যবস্থা সম্মেলন’-এ বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
“বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব একই মূল্যবোধ ও একটি সমৃদ্ধ, জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে,” বলেন গুইন লুইস।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের লক্ষ্য—কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে। প্রতিটি উদ্যোগেই নারী-পুরুষ সমতা ও মানবাধিকারকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”