সিঙ্গাপুর, ৭ অক্টোবর ২০২৫: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকি সিঙ্গাপুর সরকারের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। ৩ অক্টোবর তিনি আলাদা বৈঠকে মিলিত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অং ই কুং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান এবং শ্রম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দিনেশ বাসু দাশের সঙ্গে।
বাণিজ্য সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী গ্রেস ফুর আমন্ত্রণে তিনি ৫ অক্টোবর সিঙ্গাপুর গ্র্যান্ড প্রিক্স উপলক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজেও অংশ নেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে টেবিলে উপস্থিত ছিলেন শ্রম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ড. তান সি লেং, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গ্যান সিও হুয়াং এবং পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মুরালি পিল্লাই।
সেই অনুষ্ঠানে লুতফে সিদ্দিকি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং, জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং, উপ-প্রধানমন্ত্রী গ্যান কিম ইয়ং, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মন্ত্রী ইন্দ্রাণী রাজাহ এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী অ্যালভিন তানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এছাড়া তিনি বেসরকারি খাতের বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও দেখা করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রে ডালিও, গ্র্যাবের সিইও অ্যান্থনি তান, অ্যান্টলারের সিইও ম্যাগনাস গ্রিমেল্যান্ড, জিআইসি’র সিইও লিম চৌ কিয়াত, সিঙ্গাপুর স্টক এক্সচেঞ্জের সিইও লোহ বুন চাই, এভারকোরের এশিয়া চেয়ারম্যান কিথ ম্যাগনাস এবং ইন্দোনেশিয়া চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান আনিন্দ্যা বাকরি।
এছাড়া এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের চেয়ারম্যান লি চুয়ান টেক, পিএসএ অঞ্চলের সিইও ভিনসেন্ট এনজি এবং পেপ্যালের আঞ্চলিক প্রধান আমির ভালিয়ানির সঙ্গে তিনি পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ সুযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বৈঠকের কথা উল্লেখ করে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান বলেন, “যুব ও পরিশ্রমী জনশক্তির কারণে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অপরিসীম। দেশটি এখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও সংযোগ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় পাশে থাকতে চায়।”
চ্যানেল নিউজ এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুতফে সিদ্দিকি অনলাইন বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্যের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন। তিনি নির্বাচনপূর্ব সময়ে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
সফরের শেষে তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও প্রবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করেন। সেবা কার্যক্রমের মান সম্পর্কে তাঁদের কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য নেন। বর্তমানে ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিকের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে—যেখানে কয়েক মাস আগেও এই সময় ছিল চার মাসের বেশি।
এছাড়া কাজের ভিসা (আইপিএ) হাইকমিশনে সরাসরি জমা দেওয়ার নিয়ম বাতিল হওয়ায় প্রবাসীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এসব উদ্যোগে বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকি হোম অ্যাডভাইজার জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন।