চীন–ব্রিটেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে দুই দেশের উদ্যোগ

চীন ব্রিটেনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ আছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আসন্ন বেইজিং সফরকে সামনে রেখে এই আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। ২০১৮ সালের পর এটিই হবে কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর।

২০১৮ সালে দুই দেশে ‘ইউকে-চায়না সিইও কাউন্সিল’ গঠনের মাধ্যমে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়েছিল। এবার সেই কাঠামোকে নতুনভাবে সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে।

ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, বিপি, এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার, রোলস-রয়েস ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক অব চায়না, চায়না মোবাইল, চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক, চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ ও বাইডি।

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এবার তালিকায় হুয়াওয়ে ও চায়না জেনারেল নিউক্লিয়ার পাওয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।

সম্প্রতি ব্রিটেন লন্ডনে চীনের নতুন দূতাবাস নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে ইতিবাচক সংকেত।

দুই পক্ষই বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী হলেও রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা ইস্যু এখনও দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। হুয়াওয়ের ৫জি নেটওয়ার্ক ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্র–ব্রিটেন নিরাপত্তা জোটের কারণে সম্পর্কের ওপর কূটনৈতিক ছায়া রয়েছে।

চীনা বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দা ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন এখন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

ব্রিটিশ সরকার শিগগিরই স্টারমারের চীন সফর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারে। সফর সফল হলে দুই দেশের মধ্যে ২০১৮ সালের ‘গোল্ডেন এরা’ পুনরুদ্ধারের পথে নতুন অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *