কুষ্টিয়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার আশা হাবলু মোল্লার

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের আধিপত্য থাকলেও এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দলের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় কেন্দ্রীয় বিএনপি ২১ জানুয়ারি হাবলুকে বহিষ্কার করে। তবে তিনি সমর্থকদের সঙ্গে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের নিষ্ক্রিয় অংশের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই ভোটও নিজেদের দিকে টানার আশায় আছেন হাবলু।

স্বাধীনতার পর ২০০৮ বাদে সব সুষ্ঠু নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির জয় ছিল। তিনবার এমপি হয়েছিলেন রেজা আহমেদ বাচ্চুর বাবা আহসানুল হক পচা মোল্লা। পিতার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে জয় পান বাচ্চু মোল্লা। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দল এবারও তাঁর ওপর আস্থা রেখেছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আফাজ উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় ওই ভোটেরও একটা অংশ তাঁর দিকে যেতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। ইতোমধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থকেরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

হাবলু মোল্লা এর আগে ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় একবার বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। এরপর তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে তামাক ও নকল সিগারেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, মাহবুব উল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠ এক শিল্পপতির কাছ থেকে গাড়ি নেওয়া এবং মাদক মামলায় এক ব্যক্তিকে ছাড়াতে গিয়ে পুলিশ সদস্যকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে হাবলুর বক্তব্য, ‘অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারলে ১০ কোটি টাকা দেব।’ তিনি দাবি করেন, তিনি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন, ধানের শীষের বিরুদ্ধে নয়।

একই আসনে জামায়াতের বেলাল উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আমিনুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির শাহরিয়ার জামিল জুয়েলও লড়ছেন। তবে আগের নির্বাচনে জামায়াত ১০ হাজারের কম ভোট পাওয়ায় এবং ইসলামী আন্দোলনের তেমন ভোট না থাকায় তাদের জয়ের সম্ভাবনা কম বলেই স্থানীয়দের মূল্যায়ন। জাতীয় পার্টির ভোটও আগের তুলনায় কমেছে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী বেশি হলেও সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বাচ্চু মোল্লা।

হাবলুকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। তিনি বলেন, তাঁকে মানুষ আগেও বর্জন করেছে, এবারও করবে। তাঁকে হিসেবেও ধরা হয়নি।

এ আসনে বিএনপির আভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলবে—এখন তা দেখার অপেক্ষা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *