স্যাটেলাইট–ড্রোন প্রযুক্তিতে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের কৃষিক্ষেতে স্যাটেলাইট ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে—এমন ধারণা দিয়েছেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ফসলের রোগ শনাক্তকরণ, ফলনের পূর্বাভাস, জমির অবস্থা মূল্যায়ন ও দুর্যোগ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব।

শুক্রবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ‘ইমপ্লিমেন্টেশন অব স্যাটেলাইট, ড্রোন অ্যান্ড এয়ারবর্ন টেকনোলজিস অন অ্যাগ্রিকালচার’ শিরোনামের সেমিনারে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৬–৯৭ ব্যাচের পুনর্মিলনী কমিটি। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্ল্যা এবং সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. সামসুল আলাম, অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উপসচিব বি. এম. মশিউর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. ইমাদুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতের কৃষি সম্পূর্ণ তথ্যনির্ভর হবে। স্যাটেলাইট চিত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে জমির পানি চাহিদা, ফসলের স্বাস্থ্য, কীটনাশক প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য ফলনের পূর্বাভাস পাওয়া যাবে। এতে কৃষকের ঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদন বাড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আগাম সতর্কতা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এসব প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। তা হলে কৃষিতে টেকসই বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ কমানোর পথ খুলে যাবে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিমধ্যে অনেক দেশে ফল দিয়েছে। বাংলাদেশেও এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হলে কৃষকের সিদ্ধান্ত হবে আরও দ্রুত ও নিশ্চিত। এতে কৃষি খাতে দক্ষতা ও উৎপাদন উভয়ই বাড়বে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *