বাংলাদেশ ও মিশরের সর্বোচ্চ আদালতের মধ্যে পারস্পরিক বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (প্রটোকল) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বিচার বিভাগের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বর্তমানে মিশরের সুপ্রিম সাংবিধানিক কোর্টের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি বুলোস ফাহমি’র আমন্ত্রণে কায়রো সফরে রয়েছেন। সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় তিনি বিচারপতি বুলোস ফাহমির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে দুই দেশের বিচার বিভাগগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, এবং বিচার প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপরই দুই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রটোকলে স্বাক্ষর করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, স্বাক্ষরিত স্মারকে বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ, এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
প্রটোকল অনুযায়ী, উভয় দেশের আদালত যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, গবেষণা, সেমিনার আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ আইনবিদদের মাধ্যমে জ্ঞান বিনিময়সহ পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়ে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শ্রেষ্ঠ বিচারিক চর্চা ও উদ্ভাবন বিনিময়ের লক্ষ্যে নিয়মিত সম্মেলন ও সফর আয়োজনের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সহযোগিতা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দুই দেশ লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ করবে, যারা এই প্রটোকল বাস্তবায়নে সমন্বয় ও যোগাযোগে ভূমিকা রাখবেন।
এই প্রটোকল স্বাক্ষর দুই দেশের বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তি এবং উৎকর্ষতার প্রতি অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এটি বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আধুনিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ সফর শেষে আগামী ১১ অক্টোবর দেশে ফিরে আসবেন।