দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিনিয়োগ উন্নয়ন–সংক্রান্ত একাধিক সংস্থাকে একীভূত করে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
এই একীভূতকরণের আওতায় আসছে—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর আওতাভুক্ত বড় শিল্পনগরীগুলো।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এখন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন অনুমোদন, জমি বরাদ্দ, অবকাঠামো সুবিধা ও নীতিগত সহায়তার জন্য একাধিক সংস্থার দ্বারস্থ হতে হতো। এতে সময় বাড়ত, সমন্বয়ের ঘাটতি থাকত এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হতো। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে এসব সমস্যা দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
একীভূত সংস্থার মাধ্যমে সম্পদ, দক্ষতা ও জনবল এক জায়গায় আসবে। ফলে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত সেবা এবং কার্যকর সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। সরকার আশা করছে, এতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নতুন সংস্থার কাঠামো নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র থার্ড-পার্টি পরামর্শক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নতুন অর্গানাইজেশনের পূর্ণাঙ্গ নকশা প্রণয়ন করবে। এতে দায়িত্ব বণ্টন, জনবল ব্যবস্থাপনা ও কাজের পরিধি নিরপেক্ষভাবে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা কাটবে। তবে তারা বলছেন, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনবল ধরে রাখা এবং প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়ে চলা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সরকার বলছে, ধাপে ধাপে এই সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। লক্ষ্য একটাই—দেশের বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে সহজ, দ্রুত এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা।