পঞ্চশীল প্রার্থনাসহ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গামাটি আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিহারের অধ্যক্ষ করুনা পাল থেরো। প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মারুফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল একরামুল রাহাত পিএসসি, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, পৌর প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু।
অনুষ্ঠানে প্রধান সদ্ধর্মালোচক হিসেবে ধর্মদেশনা দেন কাটাছড়ি বন বিহারের অধ্যক্ষ বনভান্তের শিষ্য শ্রীমৎ প্রজ্ঞাদর্শী ভিক্ষু। স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসব পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক নির্মল বড়ুয়া মিলন।
শত শত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পঞ্চশীল পাঠের মধ্য দিয়ে ভিক্ষুসংঘকে চীবর উৎসর্গ করেন। প্রার্থনায় তারা মানবমনের অহিংসা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে সকাল থেকে ছিল পরিত্রাণ পাঠ, পুষ্পপূজা, ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, সংঘদান ও ধর্মদেশনা। দুপুরে ছিল উদ্বোধনী সংগীত ও চীবর দান অনুষ্ঠান, আর সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানো হয়।
উল্লেখ্য, মহামতি গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা অনুসারে বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান বৌদ্ধদের কাছে অতি পবিত্র পূণ্যানুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। ভিক্ষুসংঘের পরিধেয় বস্ত্র ‘চীবর’ দানকে বৌদ্ধরা সদ্ধর্ম চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ দান হিসেবে মনে করেন।