দেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন খাতে সহায়তা পেতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, আইএমএফ, এডিবি, আইডিবি ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনার অগ্রগতি চলছে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে শিগগিরই দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করছি। বাকিগুলোও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যৎ আলোচনায় মূলত আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি প্রদর্শন ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা উপস্থাপনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। “নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় ধরনের ঋণগ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে,” বলেন তিনি।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে তার আসন্ন সফর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা জানান, সরকার ইতোমধ্যেই আইএমএফ নির্ধারিত বৈদেশিক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “আমরা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেছি। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে আমরা অগ্রগতি দেখাতে পেরেছি।”
ঋণ সীমা নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্যই এই সীমা। উন্নয়ন অংশীদাররা চান, আমরা যেন অতিমাত্রায় উচ্চাকাঙ্ক্ষী না হই এবং অযোগ্য প্রকল্পে ঋণ ব্যয় না করি। দ্রুত ঋণ বৃদ্ধি অদক্ষতা ও অপচয়ের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই তাদের উদ্বেগ যৌক্তিক।”
আইএমএফ সম্প্রতি বাংলাদেশের জন্য প্রথমবারের মতো বৈদেশিক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৮.৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রযোজ্য। এ তথ্যটি সংস্থাটির সাম্প্রতিক ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএমএফের ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ঋণ ব্যবস্থাপনা তদারকির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম তিন মাসে সর্বোচ্চ ১.৯১ বিলিয়ন, ছয় মাসে ৩.৩৪ বিলিয়ন, নয় মাসে ৪.৩৪ বিলিয়ন এবং পুরো অর্থবছরে সর্বমোট ৮.৪৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই নতুন সীমা ২০২৩ সালে অনুমোদিত আইএমএফের ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের মূল ঋণ কর্মসূচির অংশ ছিল না।