বাংলাদেশের স্থাপত্য ও মানবিক উদ্যোগের জন্য এটি একটি গর্বের মুহূর্ত। আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার পেয়েছেন খ্যাতিমান বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম। তাঁর নকশায় নির্মিত ‘খুদি বাড়ি’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে সুইস ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন (SDC)। এই সহযোগিতার স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি সংস্থাটির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের সনদ তুলে দেওয়া হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচারের সনদ গ্রহণ করেন সুইস ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের হেড অব কো-অপারেশন ডিপাক এলমার। সনদটি তাঁর হাতে তুলে দেন পুরস্কারপ্রাপ্ত স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগা খান-বাংলাদেশের প্রতিনিধি হুসেইন হায়দার আলী জিওয়ানি।
‘খুদি বাড়ি’ প্রকল্পের সূচনা হয় ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারির সময়, লকডাউনের বাস্তবতায়। মেঘনা নদীর চর ও বালুচরে বসবাসকারী ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আশ্রয়ের কথা ভেবে এই ঘরের নকশা করা হয়। এসব অঞ্চলের মানুষ প্রায়ই বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকেন।
খুদি বাড়ির মূল শক্তি এর মডুলার কাঠামো। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য বাঁশ ও স্টিলের জয়েন্ট ব্যবহার করে ঘরটি খুব দ্রুত নির্মাণ করা যায়। প্রয়োজনে এটি খুলে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। মাটি থেকে উঁচুতে নির্মিত হওয়ায় বন্যার সময় এই ঘর নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
এই নকশা শুধু বসতঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। একই ধারণা ব্যবহার করে বড় আকারের কাঠামোও তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নির্মিত কমিউনিটি সেন্টার, যা সংকটকালে শরণার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক সেবা দিচ্ছে।
স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে—ভাবনাশীল নকশা, স্থানীয় জ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা একসঙ্গে কাজ করলে কীভাবে বাস্তব জীবনের সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই সমাধান গড়ে তোলা যায়। ‘খুদি বাড়ি’ প্রকল্পে আগা খান অ্যাওয়ার্ডের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের মানবিক স্থাপত্যচর্চার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।