বাংলাদেশের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং গাম্বিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও ই-গভর্নেন্স সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলমান ডিজিটাল সহযোগিতা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
বুধবার (২৮শ জানুয়ারী) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই এমওইউ স্বাক্ষর হয়। গাম্বিয়ার পক্ষে অংশ নেয় মিনিস্ট্রি অব পাবলিক সার্ভিস, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস, পলিসি কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড ডেলিভারি এবং মিনিস্ট্রি অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ডিজিটাল ইকোনমি। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে যুক্ত থাকে এটুআই প্রোগ্রাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। এছাড়া এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহা. আব্দুর রফিক, যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক মো. রশিদুল মান্নাফ কবীর, হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম এডভাইজার ড্রাগান পোপোভিকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গাম্বিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মিনিস্ট্রি অব পাবলিক সার্ভিস-এর স্থায়ী সচিব পাতেহ জাহ। তাঁর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়, পাবলিক সার্ভিস ও যোগাযোগ ও ডিজিটাল অর্থনীতি মন্ত্রণালয়, গাম্বিয়া আইসিটি এজেন্সি, সেন্ট্রাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার এই উদ্যোগ গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি কার্যকর উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, মানুষের জন্য সহজ ও কার্যকর জনসেবা নিশ্চিত করতে দুই দেশই বাস্তবসম্মত ডিজিটাল সমাধানের পথে এগোচ্ছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে।
আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিকের অভিজ্ঞতা সহজ করা। তাঁর ভাষায়, সেবা কত দ্রুত, কত সহজে এবং কতটা ন্যায্যভাবে নাগরিকের কাছে পৌঁছাচ্ছে—এই বিষয়গুলোই ডিজিটাল রূপান্তরের আসল মানদণ্ড।
এটুআই প্রকল্প পরিচালক মোহা. আব্দুর রফিক বলেন, বাংলাদেশে উদ্ভাবিত ডিজিটাল সমাধান যে অন্য দেশের বাস্তবতায়ও সফলভাবে কাজ করতে পারে, গাম্বিয়ায় মাইগভ প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণিত হয়েছে। নতুন এই এমওইউ-এর লক্ষ্য শুধু একটি প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ না থেকে, বাংলাদেশের আরও জনসেবামুখী ডিজিটাল সমাধান গাম্বিয়ায় যুক্ত করা।
এটুআই-এর হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, বাংলাদেশের জনবান্ধব ডিজিটাল সেবাগুলো কীভাবে অন্য দেশের জন্য আরও কার্যকর করা যায়, সে লক্ষ্যেই এটুআই কাজ করছে। গাম্বিয়ার সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব দুই দেশের জনগণের জন্যই লাভজনক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গাম্বিয়ার স্থায়ী সচিব পাতেহ জাহ বলেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সরাসরি দেখার ও শেখার লক্ষ্যেই তাদের এই সফর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কীভাবে ই-গভর্নেন্স সিস্টেম তৈরি ও পরিচালনা করছে এবং তা মানুষের কাজে লাগাচ্ছে—এই অভিজ্ঞতাগুলো গাম্বিয়ায় বাস্তব উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। এই এমওইউ সেই শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ করবে।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশই জনসেবা প্রদানকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে কাজ করবে। বাংলাদেশের জন্য এটি সরকার-থেকে-সরকার সহযোগিতার মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তি ও বাস্তব অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। অন্যদিকে গাম্বিয়ার লক্ষ্য হলো কাগজপত্রনির্ভর প্রশাসন কমিয়ে, দপ্তরে দপ্তরে ঘোরাঘুরি ও সময় অপচয় হ্রাস করে নাগরিক সেবাকে আরও সহজ ও ডিজিটাল করা।