বিএমইউতে অনলাইনে পরিশোধ করা যাবে চিকিৎসাসেবার সব বিল ও ফি

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ), যা সাবেক পিজি হাসপাতাল নামে পরিচিত, চিকিৎসাসেবার বিল ও বিভিন্ন ধরনের ফি পরিশোধে চালু হলো অনলাইন ব্যবস্থা। এখন থেকে রোগী, শিক্ষার্থী ও সেবাগ্রহীতারা আর ব্যাংকের বুথে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিতে বাধ্য হবেন না। জাতীয় পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’ যুক্ত হওয়ায় ঘরে বসেই ডিজিটাল মাধ্যমে সব ধরনের অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিএমইউ’র শহীদ ডা. মিল্টন হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রামের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ই-ওয়ালেট ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবার বিল ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ করা যাবে। একপে প্ল্যাটফর্ম পুরো প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে কাগজবিহীন এবং স্বয়ংক্রিয় করতে ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নেই। একপে চালুর ফলে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। তিনি স্বাস্থ্যখাতে ডেটা ইন্টারঅপারেবিলিটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউ’র ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, রোগীদের উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য। এটুআইয়ের সহায়তায় বিএমইউ’র আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক হবে। এই উদ্যোগ সফল করতে যৌথভাবে কাজ করে যাওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

এটুআই প্রকল্প পরিচালক মোহা. আব্দুর রফিক বলেন, একপে গেটওয়ে ব্যবহারের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবাগুলো আরও সহজে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। এটি নগদবিহীন ও জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা রোগীদের সময় ও খরচ কমাবে।

এটুআই’র হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম জানান, নতুন এই ব্যবস্থায় সেবাগ্রহীতা ও শিক্ষার্থীদের আর নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঘরে বসেই নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যমে বিল ও ফি পরিশোধ করা যাবে। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি হাসপাতালের ভিড় ও হয়রানি কমবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ আর্থিক লেনদেন আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ হবে।

আয়োজকদের মতে, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্যোগের ফলে রোগীদের চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার সহজ হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি জনবান্ধব, দক্ষ ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাহরীন আখতার, হেড অব কমিউনিকেশন্স মোহাম্মদ সফিউল আযম, কনসালটেন্ট (একপে) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসার উছেন অংসহসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় প্রধান ও চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *