রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী ‘হরাইজন ফেস্ট ২০২৫ : সেলিব্রেটিং ওমেন, স্কিলস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট’ সমাপ্ত হয়েছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর উদ্যোগে এবং জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড-এর কারিগরি সহায়তায় অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে নারীর ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল নারীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। আয়োজনে কর্মশালা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে নারী নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে ধরা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া। জিআইজেড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. আন্দ্রেয়াস কুক গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।
প্রধান অতিথি এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া তার বক্তব্যে বলেন, “নারীরা যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানে সমানভাবে অংশ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও যোগ করেন, দুই দিনব্যাপী কর্মশালাগুলোতে নারীবান্ধব, যোগ্যতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ অতিথি মমতাজ আহমেদ বলেন, হরাইজন ফেস্ট নারীর ক্ষমতায়নে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলেছে। তিনি জানান, সরকারি, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে এই আয়োজন সহযোগিতার নতুন দিক খুলেছে, যা ভবিষ্যতের নীতি প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দেবে।
ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া বলেন, “নারী, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান—এই তিনটি কেবল পৃথক ধারণা নয়, বরং উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পরস্পর-সংযুক্ত স্তম্ভ।”
সভাপতি ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, এই আয়োজন থেকে যে সুপারিশগুলো এসেছে, তা নীতি প্রণয়ন এবং নারীদের ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ শিল্প ও সৃজনশীল খাতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
‘হরাইজন ফেস্ট ২০২৫’ নারী ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেশের জন্য নতুন দিশা নির্দেশ করেছে।