বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) মডেলে আনলিমিটেড কোয়াড-প্লে সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টরা একে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও সেবা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
আজ বিটিসিএলের রমনা কার্যালয়ে এই সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এ সময় তিনি রমনা অফিসে স্থাপিত বিটিসিএলের নাগরিক সেবা কেন্দ্রও ঘুরে দেখেন।
এমভিএনও মডেলে নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই মোবাইল সেবা দেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিটিসিএল, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই সেবা চালু করছে। এর আওতায় গ্রাহকরা আনলিমিটেড ভয়েস কল ও আনলিমিটেড ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা ‘আলাপ’ও এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকছে।
এই এমভিএনও সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে GPON কানেকশন ও রাউটারসহ আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। পাশাপাশি জনপ্রিয় ওটিটি কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’র মাধ্যমে নাটক ও সিনেমাসহ বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট উপভোগের সুযোগ থাকবে। আনলিমিটেড ভয়েস, আনলিমিটেড ডেটা, আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড এবং ডিজিটাল কনটেন্ট—এই চারটি সেবাকে একীভূত করেই গ্রাহকদের জন্য কোয়াড-প্লে সেবা দেওয়া হবে।
বিটিসিএলের লক্ষ্য একটি আধুনিক, সমন্বিত ও গ্রাহকবান্ধব টেলিযোগাযোগ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। কর্তৃপক্ষের আশা, এই উদ্যোগ সাশ্রয়ী ও স্মার্ট সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে। একই সঙ্গে ওটিটি কনটেন্ট পাইরেসি কমাতে সহায়ক হবে, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারে বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে এবং বিটিসিএলের বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিটিসিএলের এমভিএনও সেবা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে। এটি একটি স্মার্ট, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ডিজিটালি সংযুক্ত ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে শিগগিরই এমভিএনও সিম সাধারণ গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।