সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঢাকার সেনানিবাসে ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও জাপান সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব নতুন মাত্রা লাভ করলো।
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। জাপানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সিলেন্সি সাইডা শিনিচি।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সূত্র জানায়, ২০২৩ সাল থেকে উভয় দেশের নিবিড় ও ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমন্বিত দৃষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর ও দূরদর্শী কূটনীতির ফল হিসেবেও এ চুক্তিকে দেখা হচ্ছে।
এই প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্পাদিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। এর আওতায় উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম অধিগ্রহণের পাশাপাশি যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে।
চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় বাড়বে। এতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।