বিনিয়োগবান্ধব আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)–এর সঙ্গে বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাসমূহের চতুর্থ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)–এর প্রধান কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, এফসিএমএ। সভায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা।
সভায় কর, ভ্যাট ও কাস্টমস নীতিতে বিদ্যমান জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার ভিত্তিতে রাজস্বনীতি–সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব আগামী বাজেটে প্রাসঙ্গিকভাবে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আংশিক রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য শুল্ক বন্ড সুবিধা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে শতভাগ ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্ক বন্ড সুবিধা–সংক্রান্ত বিদ্যমান এসআরও বিনিয়োগবান্ধব কি না, তা বিডা পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে বর্তমানে অন্তর্ভুক্ত আটটি খাতের বাইরে আরও নতুন খাত যুক্ত করার সম্ভাবনাও বিশ্লেষণ করে এনবিআরে প্রস্তাব দেবে সংস্থাটি।
উদীয়মান ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিডা’র এফডিআই হিটম্যাপে চিহ্নিত সেমিকন্ডাক্টর, এপিআই, মেডিকেল ডিভাইস, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) এবং অ্যাগ্রো-প্রসেসিং খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে খাতভিত্তিক কর, ভ্যাট ও শুল্ক নীতির সুপারিশ প্রস্তুত করা হবে। এসব সুপারিশ ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অন্তর্ভুক্তির জন্য এনবিআরে দাখিল করবে বিডা।
সভায় জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রি-অ্যারাইভাল প্রোসিডিউর চালু হওয়ায় পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে এবং কার্গো জট কমছে। ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থার আরও উন্নতির আশা প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে বিদ্যমান কাস্টমস ও করনীতিগুলো পর্যালোচনা করে সেগুলোকে সব ক্ষেত্রে অভিন্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগের জন্য এনবিআর আগামী বাজেট প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ব্যবসা সহজ করাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার। শিল্পবান্ধব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোই লক্ষ্য।
সভাপতির বক্তব্যে বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বচ্ছ নীতিমালা। শিল্পের বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় কর ও শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যাবে।