আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (৪ঠা ফেব্রুয়ারী) রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তনে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সময় সবাইকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি, দল বা রাজনৈতিক এজেন্ডার পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই। নির্বাচন পরিচালনায় আইন, বিধি, জননিরাপত্তা, জনসেবা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জানান, সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বই হবে এবারের নির্বাচনের প্রধান শক্তি।
নির্বাচনে অনিয়ম, দায়িত্ব অবহেলা বা লোভের বশবর্তী হয়ে কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন উপদেষ্টা। একই সঙ্গে প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অর্থ বা কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে জানান তিনি। এমনকি কোনো প্রকার আপ্যায়ন গ্রহণ না করার নির্দেশও দেন।
রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ স্বচ্ছ ও উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে হবে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো যাতায়াতের উপযোগী রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যালট বাক্সসহ সব নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যথাসময়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। নির্বাচন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করেছে। এটি বৈষম্যমুক্ত ও সৌহার্দপূর্ণ নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের নৈতিক দায়িত্ব। দায়িত্বে অবহেলা করলে জনগণের কাছেও জবাবদিহি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগের কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ।
মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিভাগের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নির্বাচন কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবির প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, খুলনা বিভাগের মতো রাজশাহী বিভাগের নির্বাচনি প্রস্তুতিও সন্তোষজনক। তিনি বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এবারের নির্বাচনে সহিংসতা আগের তুলনায় অনেক কম। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ১ লাখ, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, র্যাব ৭ হাজার ৭০০ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য থাকবেন।
সব মিলিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে সরকার আশাবাদী বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।