ইনফোসরকার-৩ PPP চুক্তিতে বড় ধরণের পরিবর্তন

আইসিটি বিভাগের অধীন জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প ইনফোসরকার-৩ পরিচালনায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন সম্পন্ন হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুনঃআলোচনার মাধ্যমে চুক্তির একাধিক সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে রাজস্ব বণ্টন ও জাতীয় ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারে কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে।

আগের চুক্তিতে ইনফোসরকার-৩ প্রকল্প থেকে সরকারের রাজস্ব প্রাপ্তি ছিল স্থির ও সীমিত। ইউনিয়ন পর্যায়ে আয় যতই বাড়ুক না কেন, সরকারের অংশ সর্বোচ্চ ১০ শতাংশেই সীমাবদ্ধ থাকত। ফলে প্রকল্পের আর্থিক সাফল্যের সঙ্গে সরকারের আয় বৃদ্ধির কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল না। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সক্রিয় ডিভাইস থেকে অর্জিত আয়ে সরকারের অংশ ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

সংশোধিত চুক্তিতে এই কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন মাসিক মোট আয়ের ওপর স্তরভিত্তিক (slab-based) রাজস্ব ভাগাভাগি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী—

  • মাসিক আয় ৫ কোটি টাকার কম হলে সরকারের অংশ ১৫ শতাংশ,
  • ৫ থেকে ১০ কোটি টাকার আয়ে ২০ শতাংশ,
  • এবং ১০ কোটি টাকার বেশি আয়ে সরকারের অংশ সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে প্রকল্প যত বেশি সফল হবে, সরকারের রাজস্ব আয়ও তত বাড়বে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সক্রিয় ডিভাইস থেকে অর্জিত আয়ে সরকারের অংশ ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

চুক্তি সংশোধনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ফাইবার লিজিং ও অব্যবহৃত (ডার্ক) ফাইবার কোর ব্যবহারের বিষয়টি। আগের চুক্তিতে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত বিশাল ফাইবার অবকাঠামোর পুনর্ব্যবহার সীমিত ছিল। নতুন চুক্তিতে প্রথমবারের মতো ডার্ক ফাইবার কোর লিজিংয়ের সুযোগ স্পষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

এখন এই ফাইবার সরকারি সংস্থা, মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) এবং জাতীয় ফাইবার ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে। তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় চুক্তিতে বলা হয়েছে—বর্তমান পরিচালনা, ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ সম্প্রসারণ, সরকারি প্রকল্পের সংযোগ ও জরুরি প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফাইবার সংরক্ষণ করতে হবে।

এ ছাড়া সংশোধিত চুক্তিতে জাতীয় ফাইবার ব্যাংক বা ফাইবার শেয়ারিং ব্যবস্থার বিষয়টি স্পষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফাইবার ব্যাংককে ইনফোসরকার-৩ PPP চুক্তি বাতিল, পরিবর্তন বা একতরফাভাবে সংশোধনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এর ফলে একদিকে বেসরকারি বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল অবকাঠামোগত স্বার্থও সংরক্ষিত থাকছে।

উল্লেখ্য, ইনফোসরকার-৩ একটি রাষ্ট্রনির্মিত জাতীয় অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত একটি একক, সমন্বিত ও জাতীয় ফাইবার ব্যাকবোন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। সংশোধিত চুক্তিকে সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা ও জাতীয় ডিজিটাল অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *