ব্যক্তিগত উপাত্তের নিরাপত্তা জোরদার এবং আইনের প্রয়োগ আরও সহজ করতে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশোধিত এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (সিআইআই) সংশ্লিষ্ট উপাত্ত দেশের ভেতরে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম।
নতুন এই অধ্যাদেশের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’। এটি জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে অধ্যাদেশটি জারি করেন।
সংশোধিত অধ্যাদেশে ধারা ২৯-এ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থা ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো’ হিসেবে চিহ্নিত, সেগুলোর ক্লাউডে সংরক্ষিত উপাত্তের অন্তত একটি সিংক্রোনাইজড রিয়াল-টাইম কপি বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে রাখতে হবে। একই নিয়ম সীমাবদ্ধ ব্যক্তিগত উপাত্তের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
এ ছাড়া শাস্তির বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূল অধ্যাদেশের ধারা ৪৮-এ যেসব অপরাধের জন্য আগে ‘কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে’ শাস্তির কথা বলা ছিল, সংশোধনীতে তা পরিবর্তন করে শুধু ‘অর্থদণ্ডে’ সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই ধারার আওতায় বিচার্য অপরাধের ক্ষেত্রে এখন আর কারাদণ্ডের বিধান থাকছে না, কেবল আর্থিক জরিমানাই প্রযোজ্য হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সংশোধনের ফলে একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল উপাত্তের নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে আইন প্রয়োগ প্রক্রিয়াও আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হবে।