বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সই করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার।
গত বছরের এপ্রিল থেকে প্রায় নয় মাস ধরে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলে। দীর্ঘ আলোচনা ও দরকষাকষির পর অবশেষে চুক্তিটি চূড়ান্ত হলো।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সামগ্রিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের আলোচক দলের “অসাধারণ প্রচেষ্টা”র কথাও তুলে ধরেন। গ্রিয়ার বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।
বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। তাঁর ভাষায়, এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের বাজারে একে অপরের পণ্যের প্রবেশাধিকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামাবে। আগে এই শুল্কহার ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে গত বছরের আগস্টে তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। নতুন সিদ্ধান্তে সেটি আরও এক ধাপ কমানো হলো।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। এর আওতায়, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য শুল্কে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন—পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস আমাদের রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দেবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট পোশাকপণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই দেশ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হলে চুক্তিটি কার্যকর হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।