জাকির হোসেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন মন্ত্রিসভায় বড় চমক হিসেবে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে একসঙ্গে তিনটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেওয়ার পর নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, দলীয় নিষ্ঠা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়–এর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রাণিসম্পদের মতো খাত দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে একসঙ্গে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
শপথের পর সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলবাসী তাকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চেয়েছিল, সেই আশা পূরণ হয়েছে। তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চান বলেও জানান তিনি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই টাঙ্গাইল-৫ (সদর) এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শহর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘ ৩৬ বছর পর টাঙ্গাইল সদর থেকে নির্বাচিত কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন। এতে এলাকাবাসী গর্বিত ও আনন্দিত। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক বলেন, টুকুর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি শুধু দলের জন্য নয়, পুরো সদর উপজেলার মানুষের জন্য গর্বের বিষয়। তার নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন আরও এগোবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তিনি প্রায় ৫১ হাজার ভোট বেশি পান। এবারই প্রথম তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক।
বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫০টি মামলা হয় এবং তিনি ১২ দফা কারাভোগ করেন। মোট প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন এবং টানা ৪৬ দিন রিমান্ডে থাকতে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর এখন সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও গতিশীল করা। নতুন সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কতটা সফল হন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।