কুমিল্লা তিন নদী পরিষদকে একুশে পদকে ভূষিত করার দাবি

অরাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সংগঠন কুমিল্লা তিন নদী পরিষদ-এর ৪৩তম আসরের ১৮তম দিনে গান, কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা নগর উদ্যানের জামতলায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ-এর সাবেক বাংলা বিভাগীয় প্রধান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগীতশিল্পী অধ্যাপক সেলিনা রহমান ওপেল। বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে টানা ৪৩ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তিন নদী পরিষদ কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সচল ও প্রাণবন্ত রাখছে। এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সংগঠনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে একুশে পদকে ভূষিত করার দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিন নদী পরিষদের সভাপতি ও সাপ্তাহিক ‘অভিবাদন’-এর সম্পাদক আবুল হাসানাত বাবুল। সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক রাহুল তারণ পিন্টু। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক শিরোনামের সম্পাদক ও কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক নীতিশ সাহা, এখন টিভির কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি খালেদ সাইফুল্লাহ, সাংবাদিক ও সংগঠক অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, সংগঠক আব্দুল হান্নান এবং নাশিদ একাডেমির শুভাকাঙ্ক্ষী আব্দুল্লাহীল বাকী।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার পারস্যের কবি শেখ সাদি-র একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যে জাতি জ্ঞানী-গুণীদের সম্মান করে না, সে দেশে গুণীর জন্ম হয় না। গুণীদের অবমূল্যায়ন একটি জাতির জন্য অশনিসংকেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সমাজের প্রতিটি স্তরে গুণীজনদের সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পারভিন হাসানাত, কুমিল্লা থিওসোফিক্যাল সোসাইটির সদস্য সচিব চন্দন দাস, সাংবাদিক সুমাইয়া হাসানাত সময়, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খায়রুল আজিম শিমুল, কবি ও সংগঠক নাসরিন আক্তার এবং কবি আবুল বাশারসহ অনেকে।

একাডেমির প্রশিক্ষক ইমরান হাসান খানের পরিচালনায় নাশিদ একাডেমির শিক্ষার্থীরা গান ও কবিতা পরিবেশন করেন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলেন—সোহা, নাফিজা, আনহা, সোহানা, সাফওয়ান, আরিবা, রোজা, আয়রা, আরমানি, মুনতাহা, মাহির, সাউদা, ফারিহা, ফাবিহা, সুবাইতা, সামির, মানহা, নাফিস, ওয়াসিব, জায়ান, ওয়াসি, ইক্বরা, তাহির, জাফরিন, রাদিফা, সারা, রাফা ও নাজিয়াত।

আলোচনা, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনায় প্রাণবন্ত এ আয়োজন কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছে বলে উপস্থিতরা মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *