রাজনৈতিক আবহে অনুষ্ঠিত এবারের বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-এ সর্বোচ্চ সম্মান গোল্ডেন বিয়ার জিতেছে জার্মান নির্মাতা ইলকার চাতাক-এর ছবি ইয়েলো লেটার্স। গত দুই দশকের বেশি সময়ে কোনো জার্মান পরিচালকের জন্য এটি প্রথম এমন সাফল্য।
ছবিটির জার্মান নাম গেলবে ব্রিফে। গল্পের কেন্দ্রে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার দুই নাট্যশিল্পী—দেরিয়া ও আজিজ। প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁরা চাকরি হারান। সেই চাপ তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করে। যদিও কাহিনির পটভূমি আঙ্কারা, ছবিটি ধারণ করা হয়েছে জার্মানির হামবুর্গ ও বার্লিনে। পরিচালকের ভাষায়, এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন—রাজনৈতিক সংকট কেবল একটি দেশের নয়; একই বাস্তবতা অন্যত্রও দেখা দিতে পারে।
উৎসবের জুরি প্রধান, খ্যাতিমান জার্মান নির্মাতা উইম ভেন্ডার্স ছবিটিকে অভিহিত করেন “সর্বাধিকারবাদী রাজনৈতিক ভাষার বিপরীতে সহানুভূতির সিনেমা” হিসেবে। তাঁর মন্তব্য উৎসবের আগে বিতর্কও তৈরি করেছিল, কারণ তিনি এক পর্যায়ে বলেছিলেন, চলচ্চিত্রকারদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকা উচিত। তবে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে বিজয়ীদের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল রাজনৈতিক অবস্থান।
সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্র বিভাগে গোল্ডেন বিয়ার জেতেন লেবাননের নির্মাতা মারি-রোজ ওস্তা। পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন তুলে বক্তব্য দেন। ডকুমেন্টারি পুরস্কারজয়ী সিরিয়ান-ফিলিস্তিনি নির্মাতা আবদুল্লাহ আল-খাতিব মঞ্চে ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরেন এবং “ফ্রি প্যালেস্টাইন” স্লোগান দেন।
ইয়েলো লেটার্স-এর এক প্রযোজক তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রকৃত হুমকি আসে অটোক্র্যাট ও উগ্র ডানপন্থী শক্তির কাছ থেকে—পরস্পরের বিরুদ্ধে নয়, তাঁদের বিরুদ্ধেই লড়াই করা দরকার।
অন্য পুরস্কারগুলোর মধ্যে, সেরা অভিনেত্রীর সিলভার বিয়ার জিতেছেন জার্মান অভিনেত্রী সান্ড্রা হুলার, ১৭শ শতকের এক নারীর পুরুষ সেজে বেঁচে থাকার গল্পে অভিনয়ের জন্য। পার্শ্ব অভিনয়ে যৌথভাবে পুরস্কার পান ব্রিটিশ অভিনেতা টম কোর্টনে ও অভিনেত্রী আনা ক্যাল্ডার-মার্শাল। গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার যায় তুর্কি নির্মাতা এমিন আল্পার-এর হাতে।
এই জয় জার্মান সিনেমার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৪ সালে ফেইথ আকিন-এর হেড-অন গোল্ডেন বিয়ার জেতার পর এটিই প্রথমবার কোনো জার্মান পরিচালক এই সম্মান পেলেন। আকিনের মতো চাতাকও তুরস্কীয় অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া জার্মান নির্মাতা—যা দুই প্রজন্মের সৃজনশীল ধারার একটি মিলের ইঙ্গিত দেয়।
জার্মানি, ফ্রান্স ও তুরস্কের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ইয়েলো লেটার্স আগামী ৫ মার্চ জার্মানিতে মুক্তি পাবে। রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ছবিটির জয় প্রমাণ করল, ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্প দিয়েও বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতাকে শক্তভাবে তুলে ধরা যায়।