নবনিযুক্ত প্রাণিসম্পদ ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, কৃষিভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নই দেশের টেকসই উন্নয়নের প্রধান পথ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন এবং দলটির অতীত আন্দোলন ও বর্তমান নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

রোববার (২২শে ফেব্রুয়ারি) সাভারে অবস্থিত বিসিএস লাইভস্টক একাডেমি প্রাঙ্গণে নবনিযুক্ত ৪৪তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) ক্যাডার কর্মকর্তাদের পাঁচ দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে দেশের নদ-নদী দূষিত হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষি ও মৎস্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

তার মতে, যদি কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায় এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, তাহলে একদিকে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে। তিনি বলেন, “কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি সমৃদ্ধ হলেই দেশ উন্নত হবে।”

অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নিলেও বিএনপি জনগণের অনুভূতি ধারণ করে রাজনীতি করেছে। তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের আস্থা ও সমর্থন নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

নবনিযুক্ত ক্যাডার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা রাষ্ট্রের কর্মকর্তা—কোনো ব্যক্তি বা দলের নন। রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা এবং মাঠপর্যায়ে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তার ভাষায়, একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই আয়োজনের মাধ্যমে নবনিযুক্ত প্রাণিসম্পদ ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব, নীতিমালা ও মাঠপর্যায়ের কাজ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক ও টেকসই করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *