১৮০ দিনের মধ্যে ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’ চালুর ঘোষণা

দেশের উত্তর সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে দীর্ঘদিনের একটি দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে লালমনিরহাট থেকে ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’ ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

রোববার (২২শে ফেব্রুয়ারী) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য, ট্রেনটি চালু হলে জেলার মানুষ সরাসরি রাজধানী ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় কমবে এবং সীমান্ত বাণিজ্যেও গতি আসবে।

মন্ত্রী জানান, লালমনিরহাটের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার চারটি বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এগুলো হলো—

  • লালমনিরহাট বিমানবন্দর সচল করা
  • চার লেন সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে উন্নত সড়ক যোগাযোগ
  • কর্মসংস্থান বাড়াতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা
  • উত্তরাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের সেচ, নদী ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত একটি আলোচিত উদ্যোগ। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষি ও শিল্পে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে লালমনিরহাটের আটটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে জেলার সব অভাবী পরিবারকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে কোন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। সেগুলো যাচাই করে দ্রুত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সভায় লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজীব প্রধান এবং লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেল, সড়ক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাটে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে। তবে অতীতে ঘোষিত বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে বিলম্বের নজির থাকায় এবার নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করা সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে থাকবে।

‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’ যদি সত্যিই ছয় মাসের মধ্যে চালু হয়, তবে এটি হবে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এখন নজর থাকবে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতির ওপর।

সাব্বির হোসেন

হাতিবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *