কুমিল্লায় শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার ৩৩তম ফাল্গুনী উৎসব উপলক্ষে ১৬ প্রহরব্যাপী অখণ্ড শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন মহোৎসব শুরু হতে যাচ্ছে। নগরীর তেলীকোনা সাহাপাড়া শ্রীশ্রী দূর্গা মন্দির ও শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার মন্দির কমিটির উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উৎসবের কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠের মাধ্যমে। পাঠ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে শ্রীশ্রী চণ্ডী পাঠ এবং সন্ধ্যায় শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় থাকবে সন্ধ্যারতি কীর্তন, গঙ্গা আবাহন, মঙ্গলঘট স্থাপন ও অধিবাস কীর্তন।
২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার অরুণোদয় থেকে শুরু হবে শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম মহাযজ্ঞ। এদিন নগর পরিক্রমা, প্রাতঃকালীন পূজা, তুলসী প্রদান, বাল্যভোগ, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে। দুপুরে ভোগরাগ শেষে রাজভোগের প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সন্ধ্যায় আবারও অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যারতি কীর্তন।
২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার প্রাতঃকালীন পূজা, তুলসী প্রদান, বাল্যভোগ, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ করা হবে। দুপুরে ভোগরাগ শেষে আগত ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। সন্ধ্যায় থাকবে সন্ধ্যারতি কীর্তন ও সত্য নারায়ণ পূজা।
উৎসবের শেষ দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার অরুণোদয়ে ঘট বিসর্জন, দধি মঙ্গল এবং কৃষ্ণ মধুরমিলনের মধ্য দিয়ে নামযজ্ঞের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। কীর্তন চলাকালীন প্রতিদিন রাত ১০টায় প্রসাদের ব্যবস্থা থাকবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
নামসংকীর্তনে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েকটি সম্প্রদায় কুমিল্লায় আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে সাতক্ষীরার শ্রী শ্রী শিব সংঘ সম্প্রদায়, কক্সবাজারের শ্রীশ্রী প্রভু নিতাই চাঁদ সম্প্রদায়, নরসিংদীর শ্রীশ্রী গোপালঠাকুর সম্প্রদায়, কচুয়ার শ্রীশ্রী গীতা সংঘ সম্প্রদায়, গোপালগঞ্জের শ্রী শ্রী অঞ্জনা অষ্টসখী সম্প্রদায় এবং লক্ষ্মীপুরের শ্রীশ্রী কৃষ্ণা কিশোরী সম্প্রদায়।
আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, উৎসবের প্রতিটি পর্বে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতি ও সহযোগিতা তারা প্রত্যাশা করছেন। তাদের মতে, এ আয়োজন শুধু ধর্মীয় আচার নয়; এটি ভক্তদের মিলনমেলা এবং আধ্যাত্মিক সাধনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।