ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-এর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু-কে মিয়ামিতে পাঠানো হয়েছিল পারিবারিক সহিংসতার ঘটনার পর—এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা দলের সাবেক প্রধান আমি ড্রর।
৭ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের দৈনিক মা’আরিভ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড্রর বলেন, ইয়াইর এক পর্যায়ে তার বাবাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপরও হামলা করেন।
ড্ররের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল “অত্যন্ত গুরুতর” এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও তা উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে নিরাপত্তা দলকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে ইয়াইর ইসরায়েল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডার হল্যান্ডেল বিচ এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
এ সময় ইসরায়েলে ব্যাপক সেনা সমাবেশ চলছিল এবং বহু তরুণকে যুদ্ধে ডাকা হচ্ছিল। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে বিদেশে অবস্থান করায় দেশটির ভেতরে সমালোচনা তৈরি হয়।
ইয়াইর ওই হামলার আগে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতেন—এমন অভিযোগও প্রকাশ্যে আনেন। তার দাবি, তথ্যটি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানো হয়নি। তিনি এটিকে এক ধরনের “সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা” বলে মন্তব্য করেন।
তার আইনজীবী বলেন, ইয়াইর বিদেশে আছেন “নির্যাতনের” পরিবেশের কারণে এবং দেশে স্বাভাবিক জীবনযাপন তার পক্ষে সম্ভব নয়।
লেবার পার্টির সংসদ সদস্য নামা লাজিমি প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন—বছরে প্রায় সাত লাখ ডলার ব্যয়ে নিরাপত্তা দিয়ে ইয়াইরকে বিদেশে রাখা কতটা যৌক্তিক।
তবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আমি ড্রর বর্তমানে নেতানিয়াহু সরকারের বিচারিক সংস্কার পরিকল্পনার বিরোধিতায় সক্রিয়। তিনি এখন বামপন্থী জায়নিস্ট রাজনৈতিক দল দ্য ডেমোক্র্যাটস-এর সঙ্গে যুক্ত। এই দলে সাবেক জেনারেল ইয়ার গোলান-ও রয়েছেন।
ড্রর সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের আচরণ নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর দামী রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে বিল পরিশোধ না করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু-এর বিরুদ্ধেও ড্রর মানসিক অসুস্থতা ও উপহার আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন। অতীতে উপহার গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, যা এখনো বিচারাধীন।
ড্রর আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের কিছু ব্যক্তি কাতারের সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগ রেখেছেন। তার মতে, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
ইসরায়েল বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে গভীর বিভাজনের মধ্যে রয়েছে। বিচারিক সংস্কার, যুদ্ধ পরিচালনা, জিম্মি সংকট এবং দুর্নীতির মামলাকে ঘিরে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক চলছে।
আমি ড্ররের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে সেই বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোই এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করবে তদন্ত, বিচারপ্রক্রিয়া এবং চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।
সংবাদ সূত্র: দ্য ক্রেডল, মারিভ, হারেত্জ, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল, আল-মায়াদিন