লালমনিরহাট-এর পাটগ্রাম উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু উত্তোলন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে চার ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার কালিরথান (নতুন বাসস্ট্যান্ড) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেন।
অভিযান চলাকালে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে প্রশাসনের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারা অনুযায়ী দুইজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সোহাগপুর গ্রামের মো. দুলু মিয়ার ছেলে হৃদয় ইসলাম (২০) এবং মির্জারকোট গ্রামের ছমির উদ্দিনের ছেলে নুরুজ্জামান (৪৩)।
একই অভিযানে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ১৫(১) ধারা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের দায়ে আরও দুইজনকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তারা হলেন— মেছিরপাড় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. মেহেদী হাসান (১৯) এবং পানবাড়ী এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে মো. সাফিউল ইসলাম (২৬)।
অভিযানে পাটগ্রাম থানার এসআই মো. জুয়েল চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভে বড় শূন্যতা তৈরি হয়। এতে ভূমিধস, চাষযোগ্য জমি দেবে যাওয়া এবং নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাথর ও বালু ভূগর্ভস্থ পানির প্রাকৃতিক ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে। এগুলো অপসারণ হলে পানির স্তর নিচে নেমে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে জলসংকট দেখা দিতে পারে। এছাড়া ভারী যন্ত্রের শব্দ ও চলাচল স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্যও হুমকি তৈরি করে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযানে তারা কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
সাব্বির হোসেন
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি