ঢাকায় তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনে সিটিজেন কেয়ার সেন্টার ও কল সেন্টার (১৬১২২) পরিদর্শন করে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ভূমি সেবা নিয়ে মানুষের মনে যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস রয়েছে, তা দূর করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিদর্শনকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ভূমি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বহুদিনের। তাই সেবা পদ্ধতিকে মানুষের কাছে সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে কল সেন্টারের কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ জন মানুষ সিটিজেন কেয়ার সেন্টার ও কল সেন্টারের সেবা পাচ্ছেন। এই সংখ্যা বাড়িয়ে কমপক্ষে দুই হাজারে নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
তার মতে, কল সেন্টারের ব্যাপক প্রচার না হলে প্রান্তিক মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত থাকবে। “যদি কেউ ঘুষ বা দুর্নীতির অভিযোগ করেন, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভূমি খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল বলেন, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান হবে কঠোর। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে ভূমি খাত দুর্নীতির কারণে সমালোচিত ছিল। সেই চিত্র বদলাতে প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি।
ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ ও আপত্তি নিষ্পত্তিতে সময় কমাতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি (এডিআর) চালুর মাধ্যমে মামলার জট দ্রুত কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আপত্তি ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের কথাও বলেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সেবা কার্যক্রম আধুনিক ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। এ সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, দীর্ঘদিনের জট ও অভিযোগে জর্জরিত ভূমি খাতে আস্থার সংকট কিছুটা কাটবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।