পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতীয় শাসনব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানসম্মত রাষ্ট্রীয় প্রশাসন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে একক প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি মহসিন রশিদ। মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পার্বত্য নিউজ সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম জিয়াউল হাসান (অবঃ), কর্নেল হাসিনুর রহমান (অবঃ), লে. কর্নেল খন্দকার ফরিদুল আকবর (অবঃ), মেজর হারুনুর রশিদ (অবঃ), আরজেএফ চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম, রিয়াজুল হাসান ও ড. শরিফ আব্দুল্লাহ হিস শাকি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি আব্দুস সালাম মামুন, প্রধান উপদেষ্টা, সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এবং সঞ্চালনা করেন প্রধান সমন্বয়ক মো. মোস্তফা আল ইহযায।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রভাব এবং উপজাতীয় উগ্রপন্থী সংগঠনের কর্মকাণ্ডে এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার অধিকাংশ দখলে রেখেও কিছু উপজাতীয় গোষ্ঠী রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
বক্তারা আরও দাবি করেন, ১৯৯৭ সালের তথাকথিত “শান্তিচুক্তি” প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ, যার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে অন্তত ছয়টি সশস্ত্র সংগঠন সেখানে সক্রিয় বলে তারা দাবি করেন।
তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন কখনোই সফল হবে না। প্রয়োজনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশে জাতীয় রাজনীতিক, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, আইনজীবী, পার্বত্য অঞ্চলের ছাত্র প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, “রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় আমরা সর্বদা রাষ্ট্রের পাশে আছি। প্রয়োজনে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষার জন্য কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”