বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চীনের আগ্রহ

ঢাকায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বুধবার (২৫শে ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।

মন্ত্রী জানান, দেশে ছয়টি সার কারখানা রয়েছে। কিন্তু গ্যাসের সংকটে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, এলএনজি আমদানি করে সার কারখানা চালু করতে পারে—এমন বিনিয়োগকারী খুঁজছে সরকার। উৎপাদিত সার সরকার কিনে নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এতে বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত বাজার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া বন্ধ হয়ে থাকা পাটকলগুলোতে চীনা বিনিয়োগ আহ্বান জানান তিনি। বস্ত্র ও পাট খাতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, ই-লার্নিং সেন্টার স্থাপন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন মন্ত্রী। তার মতে, এসব ক্ষেত্রে কাজ হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চীন ভূমিকা রাখতে চায়। নির্বাচিত সরকারের মেয়াদে বড় ধরনের বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আগামী পাঁচ বছরে অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এবং আয়েশা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের একপর্যায়ে রাষ্ট্রদূত বাণিজ্যমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *