সরকার বিদেশে মারা যাওয়া প্রবাসী কর্মীদের মরদেহ দেশে আনার পর তা নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিতে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ করেছে। এখন থেকে শুধু ঢাকার নয়, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকেও এ সেবা পাওয়া যাবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন দুটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, আগে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মরদেহ পরিবহন করা হতো। এখন আরও দুটি যুক্ত হওয়ায় সেবা আরও বিস্তৃত হবে। সরকারের লক্ষ্য, প্রবাসীদের মরদেহ যেন বিমানবন্দর থেকে বিনামূল্যে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
মন্ত্রী এই উদ্যোগকে “মহতী পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মন্ত্রণালয় প্রবাসীদের কল্যাণ ও কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কাজ করছে। নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মরদেহ পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিদেশ যাওয়ার আগে প্রবাসীদের বিএমইটির মাধ্যমে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধিত থাকলে মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি, জনশক্তি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য নির্ধারিত তহবিল থেকেও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ড–এর মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া বলেন, নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হওয়ায় তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহ বাড়িতে পাঠানো সম্ভব হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যাহ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর লাখো মানুষ কাজের জন্য বিদেশে যান। তাঁদের আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় উৎস। তবে কর্মস্থলে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে পরিবারের জন্য মরদেহ দেশে আনা ও বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন এই উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়াকে সহজ ও ব্যয়মুক্ত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।