পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছে মিয়ানমারের রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ)। সংগঠনটির প্রধান তুন মিয়াত নাইং বুধবার (২৫শে ফেব্রুয়ারি) পাঠানো বার্তায় বলেন, রাখাইন ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা, এমনকি বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা পুরো অঞ্চল এখন এএ’র নিয়ন্ত্রণে। এই প্রেক্ষাপটে মেজর জেনারেল তুন মিয়াত নাইং আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ–রাখাইন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাস্তবসম্মত, টেকসই ও কার্যকর সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে।
একই দিনে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুইও ড. রহমানকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে দুই পক্ষের এমন বার্তা কূটনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে বলেন, মিয়ানমারের সামরিক সরকার ও এএ—উভয় পক্ষের বার্তা চলমান যোগাযোগের ফল। তিনি জানান, এ ধরনের যোগাযোগ ও আলোচনা নতুন বাংলাদেশ সরকারের ওপর তাদের আস্থার প্রতিফলন। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে ঢাকার সক্ষমতার প্রতি তারা আস্থা দেখাচ্ছে।
ড. রহমান সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকা উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গেও কাজ করছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য—দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জেরে প্রায় সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বারবার আলোচনায় এলেও বাস্তবে অগ্রগতি সীমিত। নতুন করে রাখাইনের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন—এই তিনটি বিষয়ই এখন ঢাকা ও রাখাইনের সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। দুই পক্ষের সাম্প্রতিক বার্তা সেই সম্ভাবনাকেই সামনে এনেছে।