টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ চাইল আদালত

আদালত ব্রিটিশ লেবার পার্টির সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬শে ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ সাব্বির ফয়েজের আদালত এই নির্দেশ দেয়। দুদকের সহকারী পরিচালক এ.কে.এম. মরতুজা আলী সাগরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করা হয়।  দুদকের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেন।

দুদকের অভিযোগ, টিউলিপ সিদ্দিকী তার খালা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ব্যবহার করে ঢাকার গুলশান এলাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিকে জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন।

টিউলিপ সিদ্দিকী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি আরও দাবি করেছেন যে তিনি ব্রিটিশ নাগরিক এবং বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই।

আদালত ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক দুর্নীতি মামলায় ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। এসব মামলায়ও তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তবে টিউলিপ সিদ্দিকী পূর্ববর্তী রায়গুলোকে “সম্পূর্ণ হাস্যকর” বলে উল্লেখ করেছেন।

টিউলিপ সিদ্দিকী যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট আসনের সংসদ সদস্য। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার–এর মন্ত্রিসভায় অর্থনৈতিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

তিনি তখন বলেন, অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার খালার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক সরকারের কাজে প্রভাব ফেলছিল।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নেতৃত্ব নেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস। সর্বশেষ ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে।

ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কোনো সরাসরি আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। এটি সদস্য দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে আটক করার অনুরোধ। পরে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিউলিপ সিদ্দিকের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব এবং যুক্তরাজ্যের বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে তার অবস্থান এই মামলাকে আইনি ও কূটনৈতিকভাবে জটিল করে তুলতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *