এগ্রো-প্রোডাক্টকে প্রধান রপ্তানি পণ্য করার আহ্বান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের কার্যকর উদ্যোগ নিলে এগ্রো-প্রোডাক্টকে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, নবীন কর্মকর্তারা মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করলে কৃষির সম্ভাবনা অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নেবে এবং খাদ্যনিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।

রাজধানীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে ৪৪তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) ক্যাডারের নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের পাঁচ দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গরুর গোবর সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত ও ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে একদিকে আমদানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং মাটির উর্বরতা রক্ষা পাবে। তাঁর ভাষায়, “আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাসায়নিক সার আমদানি করছি। কিন্তু গোবর সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মাটি ও পরিবেশ—দুটোই সুরক্ষিত থাকবে।”

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সেবা দেওয়াই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। দেশের প্রাকৃতিক ও কৃষি সম্পদ পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পাবে। সততা, দায়িত্ববোধ ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা খাতে শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে। গবাদি পশু পালনকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সহজ ঋণ ও বীমা সুবিধা দেওয়া এবং বাজারজাতকরণ সহজ করতে ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র খামারি ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা নিশ্চিত করতে পারলে এই খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা সহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানের শেষে মন্ত্রী মেধাবী নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *