ভোলার বোরহানউদ্দিন থানা এলাকায় ভোররাতে এক সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় দুজন সন্দেহভাজন ডাকাত ও চুরি করা মালামাল কেনাবেচার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোর আনুমানিক ৪টা ১৩ মিনিটে উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের চকচোষ ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জালাল আহম্মেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এর আগের রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন।
ভোরে বাড়ির মূল ফটকে ধাক্কার শব্দে পরিবারের সদস্যরা জেগে ওঠেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মুখে গামছা ও মাফলার বাঁধা ৫ থেকে ৭ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা পরিবারের সদস্যদের হাত-মুখ বেঁধে ফেলে এবং মারধর করে। পরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকাতরা তিনজন নারীর কানের দুল, স্বর্ণের চুড়ি, একটি রুপার চেইন এবং ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা নগদ ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া শয়নকক্ষের কাঠের আলমারি থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা লুট করা হয়। লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পরিবার।
এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানা-এ ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা।
পুলিশ জানায়, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযান চালিয়ে পদ্মমনসা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি আবাসন এলাকা থেকে মো. আরিফ (২২) ও মো. রহিম (২২) নামে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাসাননগর এলাকার কুঞ্জেরহাট বাজারের একটি স্বর্ণের দোকান থেকে মো. মাসুদ আলম (৪০) ও মো. কামাল উদ্দিন (৪৫) নামের আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মালামাল কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের দাবি, আরিফ ও রহিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতিতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বাসা থেকে লোহার তৈরি দুটি ধারালো সরঞ্জাম এবং একটি কাঠের স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়েছে, যা ডাকাতির সময় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আব্দুর রাজ্জাক
বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি