ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা-কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যেই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সম্প্রতি চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।
চিড়িয়াখানার জু রিসার্চ, এডুকেশন অ্যান্ড সার্ভে সেন্টারে অনুষ্ঠিত সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিড়িয়াখানাকে আরও সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে হবে। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক এবং দর্শনার্থীবান্ধব রূপ দেওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে চায়। জনগণের আস্থা রক্ষা করাই তাঁদের লক্ষ্য। শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে নয়, বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই এ ধরনের পরিদর্শন করা হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ঢাকায় বিনোদনের সুযোগ সীমিত। ছুটি পেলেই অনেক মানুষ কক্সবাজারসহ দেশের বাইরে চলে যান। রাজধানীতেই যেন পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর মানসম্মত স্থান গড়ে ওঠে, সে লক্ষ্যেই চিড়িয়াখানার সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ সময় চিড়িয়াখানার বেদখল হওয়া প্রায় ৭ একর জমি দ্রুত পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও নথিপত্র দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচা, প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ সংরক্ষণাগার ঘুরে দেখেন। প্রাণীদের খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা নেন।
সভায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান সভাপতিত্ব করেন। চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রতিষ্ঠানটির সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও উপস্থাপন করা হয়।
পরিদর্শনে কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমান, মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. কামরুজ্জামান, ফখরুদ্দিন আহামেদ, মুহাম্মদ শাহাদাত খন্দকার, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. ওয়ালিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। রাজধানীর অন্যতম বড় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে জাতীয় চিড়িয়াখানার আধুনিকায়ন অনেকদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এবার সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায় কি না, সেদিকে নজর থাকবে সবার।